





সৈয়দ মুহাম্মাদ কাসিম
পরিচিতি
মুহাম্মাদ কাসিম বিন আব্দুল করিম জন্মগ্রহণ করেন ১৯৭৬ সালের ৫ জুলাই। তার উচ্চতা ১৭৩ সেমি এবং তিনি পাকিস্তানের লাহোর শহরে বসবাস করেন। শৈশব থেকেই আল্লাহ তাঁকে বিশেষ অনুগ্রহ ও হেফাজতে রেখেছেন এবং তাঁকে এক আধ্যাত্মিক ও বিশেষ ব্যক্তি হিসেবে গড়ে তুলেছেন। কাসিমের মা বলেন, ছোটবেলায় মুহাম্মাদ কাসিম এমন খেলনা খুব পছন্দ করতেন যেগুলোর ওপর আল্লাহ ও নবী মুহাম্মাদ ﷺ -এর নাম লেখা থাকত। অন্য ভাইবোনদের চেয়ে কাসিম এসব খেলনাতেই বেশি সময় কাটাতেন, যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ﷺ প্রতি তাঁর বিশেষ ভালোবাসার পরিচয় বহন করে। যখন কাসিমের বয়স ছিল প্রায় ৪ বা ৫ বছর, তখন তিনি তাঁর প্রথম স্বপ্ন দেখেন। সেই স্বপ্নে এক বেলুন বিক্রেতা তাকে বলেন, “কাসিম! তোমার বাসার ছাদে একটা সিঁড়ি আছে যেটা সরাসরি আল্লাহর কাছে যায়।” কাসিম দ্রুত ছাদে দৌড়ে যান এবং সেখানে আকাশের দিকে উঠে যাওয়া সিঁড়ি দেখতে পান, এরপর তিনি তা বেয়ে ওপরে উঠতে শুরু করেন। যখনই বৃষ্টি হতো, কাসিম ছাদে গিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবতেন, এই বৃষ্টি কোথা থেকে আসে। তিনি বেলুন নিয়ে খেলতে ভালোবাসতেন এবং সেগুলো আকাশে ভেসে যেতে দেখে অনেকক্ষণ ধরে ভাবতেন, এই বেলুনগুলো কোথায় গিয়ে পৌঁছায়।আল্লাহ ও নবী মুহাম্মাদ (সা.)-কে নিয়ে প্রাথমিক স্বপ্নসমূহ
১২ বা ১৩ বছর বয়সে, মুহাম্মাদ কাসিম একটি স্বপ্ন দেখেন যেখানে আল্লাহ এবং রাসূল মুহাম্মাদ (সা.) একসঙ্গে আসেন। সেই স্বপ্নে, রাসূল (সা.) তাঁকে একটি মহান মিশনের জন্য নির্বাচিত করেন। সৈয়দ মুহাম্মাদ কাসিম ১৭ বছর বয়সী হলে, এক ধারা স্বপ্ন শুরু হয়, যা আজ পর্যন্ত চলছে। এ পর্যন্ত, তিনি তাঁর স্বপ্নে ৮০০ এর বেশি বার পর্দার আড়ালে আল্লাহকে দেখেছেন এবং ৫০০ এর বেশি বার রাসূল মুহাম্মাদ (সা.)-কে দেখেছেন।মুহাম্মাদ কাসিমের ব্যক্তিত্ব
মুহাম্মাদ কাসিমের উচ্চতা ১৭৩ সেমি এবং তিনি এক মার্জিত রূপের অধিকারী। তাঁর কপাল প্রশস্ত, ভ্রু তীক্ষ্ণ, ঈগলের ঠোঁটের মত বাঁকানো নাক এবং গালে একটি তিল আছে। তাঁর পরিবার আরবদের কুরাইশ গোত্র থেকে উদ্ভূত, যার কারণে তিনি “সৈয়দ কুরাইশী” উপাধিতে পরিচিত। সৈয়দ মুহাম্মাদ কাসিম বিন আব্দুল করিম খুবই নম্র ও সরল স্বভাবের মানুষ। তিনি কোমল স্বরে কথা বলেন, পরিমিত খাবার খান, এবং সবসময় প্রথমে অন্যদের অভিবাদন জানান। তিনি কখনও অহংকার করেন না, তাঁর দুর্বলতাগুলো খোলাখুলিভাবে স্বীকার করেন, এবং অন্যদেরকে নিজের থেকে উন্নতভাবে সম্মান করেন। তিনি কখনও বিশেষ আসনে বসতে পছন্দ করেন না, বরং সাধারণ মানুষের সঙ্গে বসতে পছন্দ করেন।এক স্বপ্নে, আল্লাহ্ মুহাম্মাদ কাসিমকে বললেন, “তুমি যখন খাও, তোমার আঙ্গুল দিয়ে থালা পরিষ্কার করো। আমি তোমার জন্য পরিকল্পনা করব।” আল্লাহ মুহাম্মাদ কাসিমকে ছয়টি বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন:
- সব ধরণের শিরক (আল্লাহর সঙ্গে শরীক জড়ানো) থেকে দূরে থাকুন।
- অহংকারী বা দাম্ভিক হবেন না।
- সব সময় আল্লাহর প্রশংসা (যিকির) করুন।
- সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর উপর দোআ ও দরুদ পাঠ করুন।
- আল্লাহর রহমত থেকে কখনোই নিরাশ হবেন না।
- মুসলিমরা অন্ধকারে থাকবে, যতক্ষণ না তারা শিরক এবং তার বিভিন্ন রূপ থেকে বিরত থাকে।
আল্লাহ ও নবী মুহাম্মাদ (সা.)-কে নিয়ে স্বপ্ন
সৈয়দ মুহাম্মাদ কাসিম ব্যাখ্যা করেন যে তাঁর স্বপ্নগুলো এত পরিষ্কার যে সেগুলো বাস্তবের মতো মনে হয়। কিন্তু তিনি যখন জাগ্রত হন, তখন বুঝতে পারেন এগুলো শুধু সুন্দর একটি স্বপ্ন ছিল। কাসিমের স্বপ্নের মোট সংখ্যা খুব বেশি, কারণ তিনি ৩১ বছর ধরে স্বপ্ন দেখছেন। এর মধ্যে, তিনি পর্দার আড়ালে আল্লাহকে ৮০০ এর বেশি বার এবং রাসূল মুহাম্মাদ (সা.)-কে ৫০০ এর বেশি বার দেখেছেন। এক স্বপ্নে, আল্লাহ কাসিমকে বলেন, “তোমার নম্রতার কারণে, রাসূল মুহাম্মাদ (সা.) তোমার স্বপ্নে ছুটে আসেন।”আল্লাহর প্রতিশ্রুতি ও মুহাম্মাদ কাসিমের প্রতীক্ষা
অনেক স্বপ্নে, আল্লাহ মুহাম্মাদ কাসিমকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তিনি একদিন তাঁর সাহায্য করবেন এবং তাঁকে সফলতা দেবেন। কিন্তু কখন সেই দিন আসবে আল্লাহ তা বলেননি। কাসিম গত ৩১ বছর ধরে অপেক্ষা করছেন, ভাবছেন কখন আল্লাহর প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ হবে। ১৯৯৪ সালে এক স্বপ্নে, আল্লাহ কাসিমকে বললেন, “আমি তোমাকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, আমি অবশ্যই তা পূরণ করব। যদি পূরণ না করি, তবে আমি দুনিয়াসমূহের রব নই।” ২০০৩ সালে আল্লাহ কাসিমকে বললেন, “যতক্ষণ আমার প্রতিশ্রুত সময় আসেনি, ততক্ষণ তুমি তোমার হাত সোনায় রাখলেও তা ধুলায় পরিণত হবে। কিন্তু যখন আমার নির্ধারিত সময় আসবে, তখন তুমি তোমার হাত ধুলায় রাখলেও তা সোনায় পরিণত হবে।”কাসিমের নেতৃত্বে ইসলামের পুনর্জন্ম
এক স্বপ্নে, আল্লাহ মুহাম্মাদ কাসিমকে বলেছিলেন, “তোমাকে দেখানো স্বপ্নগুলো মানুষের কাছে বলো। আমি বিশ্বের সামনে তোমাকে পরিচয় করিয়ে দিতে চাই।” আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে কাসিমের স্বপ্নগুলো সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে, এবং একদিন তিনি একজন বিখ্যাত ব্যক্তি ও পাকিস্তানের নেতা হয়ে উঠবেন। প্রথমে তিনি পাকিস্তানকে অন্ধকার থেকে উদ্ধার করবেন, এরপর সারা বিশ্ব সত্য ইসলামের আলোয় আলোকিত হবে। কাসিমের নেতৃত্বে, পূর্বদিকের মুসলিমরা নবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর সত্য শিক্ষা প্রচার করবেন, এবং পাকিস্তান থেকে শুরু করে সারা বিশ্ব শান্তিতে পূর্ণ হবে। ২০০২ সালের এক স্বপ্নে, রাসূল মুহাম্মাদ (সা.) কাসিমকে বলেন, “আমার পুত্র, আল্লাহর রহমতে কখনোই আশা হারিও না। এটা সম্ভব নয় যে তুমি থাকবে আর অদ্ভুত ঘটনা ঘটবে না। তোমার সময়ে, পৃথিবী তার ধনসম্পদ বের করে আনবে, গাছ বেশি ফল দেবে আর পাতা কম হবে, অনন্ত বরকত থাকবে, কেউ দরিদ্র থাকবে না। সর্বত্র শান্তি থাকবে, এবং ন্যায়বিচার এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে যা আগে কখনো হয়নি।” কাসিমের শাসনামলে মুসলিমরা সর্বাধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করবে এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষায় বিশ্বনেতা হবে। পশ্চিমা দেশগুলো বলবে, “এই মানুষগুলো আগে খুব দুর্বল ছিল এবং আমাদের কাছ থেকে ঋণ নিত, এখন তারা বিশ্ব শাসন করছে।” এক স্বপ্নে, রাসূল মুহাম্মাদ (সা.) বলেছেন, “কাসিম, এমন সময় আসবে যখন পাকিস্তান নিজেই সবকিছু তৈরি করবে, এমনকি স্পেস শাটলও।”মুহাম্মাদ কাসিমের নেতৃত্বে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য
আজ, ১৮০ কোটি জনসংখ্যা থাকা সত্ত্বেও, মুসলিমরা সর্বত্র কষ্ট ভোগ করছে। ইসলামই সেই ধর্ম যা সবচেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, কিন্তু মুসলিমরা বন্যায় ভাসমান খড়ের মতো। তারা বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক সম্পদসমূহের মালিক, তবু অনেক মুসলিম দেশ দারিদ্র্য ও অর্থনৈতিক সমস্যায় ভুগছে। এর মূল কারণ হল ঐক্যের অভাব এবং আন্তরিক নেতৃত্বের অনুপস্থিতি। তাঁর স্বপ্নে, কাসিম দেখেছেন যে মুসলিমরা আবার জেগে উঠেছে। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, এবং বাংলাদেশ মিলে পাকিস্তানের সাথে একটি ঐক্য গঠন করে, এবং এই পূর্বদিকের মুসলিমরা একটি নতুন বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে, যেখানে ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হয় এবং নবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর সত্য শিক্ষা প্রচার পায়।শিরকের অবসান ও আল্লাহর সাহায্য
অনেক স্বপ্নে, আল্লাহ শিরক থেকে দূরে থাকার গুরুত্ব জোর দিয়ে বলেছেন। এক স্বপ্নে, আল্লাহ কাসিমকে বললেন, “কখনো ভেব না আমি শিরক ক্ষমা করব। আমি কিয়ামতের দিনে সব কিছু ক্ষমা করতে পারি, কিন্তু শিরক নয়।” অন্য এক স্বপ্নে, আল্লাহ বলেন, “কাসিম, তোমার পকেটে থাকা একটি ছোট ছবি, যদি তোমার দরকার না হয়, সেটিও শিরকের একটি রূপ হতে পারে।” কাসিমের স্বপ্নের প্রধান বার্তা হলো সকল ধরণের শিরক থেকে বিরত থাকা, সেটা মূর্তি হোক, ছবি হোক বা কবর। আল্লাহ কাসিমকে বলেছেন, যতক্ষণ তিনি শিরক থেকে দূরে থাকবেন, আল্লাহ তাঁর সাহায্য করবেন। এক স্বপ্নে আল্লাহ বলেন, “এই দুনিয়া কখনো এত শিরকে পূর্ণ ছিল না যতটা আজ হয়েছে। মানুষ আর শিরক চিনতে পারে না। আমি তোমাকে সাহায্য করছি, কাসিম, কারণ তুমি শিরক থেকে দূরে থাকো।” কাসিম বিশ্বাস করেন, মুসলিমরা যদি আল্লাহর সাহায্য চায়, তাহলে নিজেদের ও নিজেদের দেশ থেকে শিরক দূর করতে হবে। না হলে আল্লাহর সাহায্য ও সফলতা তাদের থেকে দূরে সরে যাবে।গাজওয়াতুল হিন্দ ও তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ
মুহাম্মাদ কাসিম তাঁর স্বপ্নে বহুবার গাজওয়াতুল হিন্দ (ভারতের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক মহান যুদ্ধ) দেখেছেন। এই যুদ্ধ তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি অংশ, যা ইসলামের অস্তিত্বের জন্য লড়াই। এই যুদ্ধের আগে, ইসলামের দুটি দুর্গঃ তুরস্ক এবং সৌদি আরব ধ্বংস হয়ে যাবে, এবং পাকিস্তান হবে ইসলামের শেষ দুর্গ। পাকিস্তান রক্ষা করা মানে ইসলামকেই রক্ষা করা। মুহাম্মাদ কাসিমের স্বপ্ন অনুযায়ী, ইসরায়েল, ফিলিস্তিন এবং অন্যান্য আরব দেশগুলোকে নিয়ে ছোটখাটো সংঘাতগুলো ধীরে ধীরে বড় যুদ্ধের রূপ নেবে, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটবে। দাজ্জালের মন্দির নির্মাণ অনেক দেশকে যুদ্ধের দিকে টেনে নিয়ে যাবে এবং এভাবেই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হবে। এই যুদ্ধে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় দেশগুলি তুরস্ককে আক্রমণ করবে। অন্যদিকে আপাতদৃষ্টিতে রাশিয়াকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের শত্রু মনে হলেও গোপনভাবে রাশিয়া তাদেরকে সহযোগিতা করবে। এটি পরবর্তীতে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যকার গাজওয়াতুল হিন্দ যুদ্ধের সময় প্রকাশ পাবে। ইসলামের প্রথম দুর্গ তুরস্কের পতনের পর, আরব ভূমি অর্থাৎ ইসলামের দ্বিতীয় দুর্গটিও ধ্বংসের মুখোমুখি হবে। এরপর আল্লাহ পাকিস্তানের মাধ্যমে মুসলমানদের সাহায্য করবেন এবং তাদের ৩,০০০টি কালো যুদ্ধবিমান দেবেন, এবং আল্লাহর সাহায্যে মুসলিমরা বিজয়ী হয়ে পুরো ভারত দখল করবে। এরপর, এই মুসলিমরা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে যোগ দেবে। পাকিস্তান তাদের কালো যুদ্ধবিমানের মাধ্যমে এমনভাবে আঘাত হানবে যা কেউ থামাতে পারবে না। আমেরিকা ও রাশিয়াকে পরাজিত করার পর, পাকিস্তান একমাত্র মহাশক্তি হয়ে মুসলিমদের হারানো ভূমি পুনরুদ্ধার করবে এবং সেগুলো পুনর্নির্মাণ করবে।দাজ্জাল, ইয়াজুজ-মাজুজ ও নবী ঈসা আলাইহিস সালাম
কাসিম তাঁর স্বপ্নে দেখেছেন যে, যখন পৃথিবীতে শান্তি ছড়িয়ে পড়বে, তখন দাজ্জাল এসে তা নষ্ট করবে। ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে রাসূলুল্লাহ ﷺ কাসিমকে বললেন,“আমার পুত্র, কিয়ামতের আগে চারটি বড় নিদর্শন প্রকাশ পাবে। প্রথমটি হচ্ছে তোমার আগমন, হে আমার সন্তান কাসিম। এরপর দ্বিতীয় বড় নিদর্শন হবে দাজ্জালের উদয়, আর শেষ দুটি হবে ঈসা আলাইহিস সালামের আগমন এবং ইয়াজুজ-মাজুজের ধ্বংসযজ্ঞ।”
কাসিমের স্বপ্ন অনুযায়ী, দাজ্জালের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অসংখ্য মানুষ মারা যাবে এবং তাঁদের অধিকাংশই হবে মুসলিম। এরপর ইয়াজুজ-মাজুজ বের হবে এবং পৃথিবীময় ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক ধ্বংস সাধন করবে। অল্প কিছু মানুষই বেঁচে থাকবে, এবং তারা ঈসা আলাইহিস সালামের সাথে বসবাস করবে।
কাসিম বিশ্বাস করেন, আমরা সেই শেষ প্রজন্ম যারা দাজ্জাল, ইয়াজুজ-মাজুজ এবং ঈসা আলাইহিস সালামের আগমন প্রত্যক্ষ করব। তিনি বলেন,
“আমি কল্পনাও করতে পারি না যে কিয়ামত এত নিকটে, এবং খুব শিগগিরই আমরা সবাই আমাদের রবের সামনে হাশরের ময়দানে দাঁড়াব।”
কাসিম তাঁর স্বপ্নে আরও দেখেছেন, কিয়ামতের দিন মানুষ তাঁদের কবর থেকে উঠবে ঠিক যেমন গাছ মাটি থেকে অংকুরিত হয়।
ভিডিও প্লেলিস্ট
10:57
11:19
58:16
58:16
58:16
19:18
3:11
9:01
2:03
47:08
যে সপ্নগুলো বাস্তবে পরিণত হয়েছে
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নসমূহ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। আমার জীবনের প্রথম স্বপ্ন আমি প্রায় পাঁচ বছর বয়সে দেখেছিলাম। এরপর, যখন আমি প্রায় তেরো বছর বয়সী ছিলাম, তখন আরেকটি স্বপ্ন দেখলাম। তারপর, আমি সতেরো বছর বয়সে ধারাবাহিকভাবে স্বপ্ন দেখা শুরু করি, এবং এই ধারাবাহিক রহমানী স্বপ্নগুলো আজও চলমান রয়েছে।
“আমি এই স্বপ্নগুলো ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে দেখছি। এর আগে আমি কখনো কাউকে এগুলো শেয়ার করিনি। যদি আমার ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ বা খ্যাতি পাওয়ার ইচ্ছা থাকত, তাহলে মানুষ সাধারণত তার কম বয়সে এমন কাজ করে। তারা তখন খ্যাতি পাওয়ার জন্য, মানুষ তাদের কথা শুনুক তাই এসব করে। আমি যদি ব্যক্তিগত স্বার্থে এসব স্বপ্ন শেয়ার করতে চাইতাম, তবে ছোটবেলায় করতাম। এখন যখন বয়স বাড়ছে, তখন এসব শেয়ার করার কোনো বিশেষ গুরুত্ব আমার কাছে নেই, এবং এতে আমি কোনো লাভও পাব না।”
“২০১৪ সালের ২০ বা হয়তো ২২ এপ্রিল, আমার প্রথমবারের মতো একটি স্বপ্ন এসেছিল যেখানে আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে আমি যেন আমাকে দেখানো স্বপ্নগুলো অন্যদের সাথে শেয়ার করি। তখন আমি একটু বিস্মিত হয়েছিলাম, এত বছর পর হঠাৎ করে এমন নির্দেশ কেন আসল, তাই ভাবলাম একটু অপেক্ষা করাই ভালো। এর পর, রাসূলুল্লাহ ﷺ আমার স্বপ্নে উপস্থিত হন এবং আমাকে বলেন যে আমি এই স্বপ্নগুলো যেন মানুষের কাছে শেয়ার করি যাতে ইসলাম ও পাকিস্তান রক্ষা পায়। ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে একই স্বপ্নে রাসূলুল্লাহ ﷺ দু’বার আমাকে বলেন যে আমাকে দেখানো স্বপ্নগুলো ইসলাম ও পাকিস্তান রক্ষার জন্য মানুষের কাছে শেয়ার করতে হবে।
যখন আমি এই স্বপ্নগুলো দেখছিলাম, তখন আমি জানতাম না কেন এগুলো আমার কাছে আসছে, উদ্দেশ্য কী। কেন এমন আদেশ আমাকে দেওয়া হচ্ছে, তার কোনো ধারণা ছিল না। এটা আমার জন্যও চমক লাগানো বিষয় ছিল। আমি ভাবতাম, যদি আমার নিজের পরিবারের সদস্যরাও এই স্বপ্নগুলো বিশ্বাস না করে, তাহলে অন্যরা কীভাবে বিশ্বাস করবে?
রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে স্বপ্নে বলেছেন যে আমার স্বপ্নগুলো অন্যদের সাথে শেয়ার করতে হবে। এখন আপনি আমাকে বলুন, যদি রাসূলুল্লাহ ﷺ আপনার কাছে স্বপ্নে এসে কোনো কাজ করার নির্দেশ দেন, আপনি কি তাকে অস্বীকার করবেন? মুসলিম সমাজে এমন কেউ নেই যে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সরাসরি আদেশ প্রত্যাখ্যান করবে; সবাই তাদের জীবন, ধন-সম্পদ এবং সবকিছু উৎসর্গ করতে প্রস্তুত।
তাই যখন রাসূলুল্লাহ ﷺ আদেশ দিলেন, আমি বললাম, “(হে আল্লাহর রাসূল), আপনার জন্য আমি জান কুরবান করতে প্রস্তুত।”
এগুলো শুধু স্বপ্ন, আর মাঝে মাঝে নেতিবাচক মন্তব্যও শুনতে হয়। আমি একটু কষ্ট পাই, কিন্তু আল্লাহ ও রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর দেওয়া এই দায়িত্ব আমি চালিয়ে যেতে বাধ্য।”
“এই প্রসঙ্গে, আপনি এই বিষয়গুলো থেকে বুঝতে পারেন যে এই স্বপ্নগুলো আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) থেকে এসেছে এবং শয়তানের থেকে নয়।
প্রথমত, আমার স্বপ্নে সবচেয়ে বেশি শিক্ষা যা আমি পেয়েছি তা হলো শিরক ও তার সমস্ত রূপ থেকে বিরত থাকা। এখন শয়তান তো কারও স্বপ্নে এসে বলতে পারবে না যে, তুমি শিরক থেকে বিরত থাকো এবং আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস করো।
দ্বিতীয়ত, আমাকে প্রতিদিন সকালের এবং সন্ধ্যার সময় আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা)-কে প্রশংসা ও মহিমান্বিত করতে বলা হয়েছে। শয়তান কারও স্বপ্নে এসে বলতে পারে না যে, তুমি সকালের এবং সন্ধ্যার সময় আল্লাহকে প্রশংসা করো।
তৃতীয়ত, আমাকে নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি দোয়া ও সালাম পাঠাতে বলা হয়েছে। শয়তান এসব কোনো কাজ কারও স্বপ্নে বলবে না।
২০০৮ সালে এক স্বপ্নে আমাকে বলা হয়েছিলো, ঘুমানোর আগে সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়তে হবে যাতে শয়তান আমার থেকে দূরে থাকে।
আরেকটি বিষয় হলো, কেউ আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) এবং তাঁর রাসূল (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নামে এতো বড় মিথ্যা বলতেই পারবে না এবং সম্ভব নয় যে কেউ বারবার আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নামে মিথ্যা বলবে আর আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) তাকে সাহায্য করে চলবে।”
“ইমরান খান ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি চিন্তা করতে থাকেন কেন তিনি ব্যর্থ হলেন, তার ব্যর্থতার পেছনের কারণ কী ছিল? তারপর তারা আমার স্বপ্নগুলো সম্পর্কে জানতে পারেন। এরপর তিনি সেই স্বপ্নগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। তখন আমি তাকে বলি তার ব্যর্থতার কারণ কী ছিল এবং কীভাবে সবকিছু ঘটল। এরপর সেনাপ্রধানও এই স্বপ্নগুলো সম্পর্কে জানতে পারেন এবং বিস্তারিত খোঁজ নেন। তারপর আমার স্বপ্নে যা এসেছে তা হলো— যখন সেনাপ্রধান জানতে পারেন, তখন হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেনাপ্রধানের স্বপ্নে আসেন, অর্থাৎ তিনি স্বপ্নের মাধ্যমে সেনাপ্রধানকে জানান যে কাসিম তার স্বপ্ন সম্পর্কে কাউকে মিথ্যা বলছে না। তার স্বপ্নগুলো সত্য এবং এগুলোতে যেমন দেখানো হয়েছে, সবকিছু ঠিক তেমনভাবেই ঘটবে। এরপর সেনাপ্রধান বিশ্বাস করেন এবং সাহসী পদক্ষেপ নেন। তারপর পাকিস্তানের জনগণ ও প্রতিষ্ঠানগুলো এই স্বপ্ন অনুযায়ী পরিকল্পনা তৈরি করে।”
“আল্লাহ্ (সর্বশক্তিমান) ইচ্ছার রব, তিনি চাইলে সূর্যকে পূর্ব দিক থেকে আনবেন, চাইলে পশ্চিম দিক থেকে আনবেন। তাঁর ছাড়া আর কারও কোনো এখতিয়ার নেই। তিনি (আল্লাহ্ সর্বশক্তিমান) কাউকে কোনো কাজের জন্য বেছে নেন। এখন আল্লাহই ভালো জানেন কেন তিনি আমাকে এই কাজের জন্য বেছে নিয়েছেন। সেনাপ্রধান কেন নিজে নিজে এই স্বপ্নগুলো দেখতে পারেন না? এটা কেবল আল্লাহর পরিকল্পনা। আপনি ইতিহাসের অন্য উদাহরণগুলো দেখুন—যখন পাকিস্তান সৃষ্টি হয়েছিল, তখন জাতির জনক (মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ্), আল্লাহ্ তাঁর প্রতি রহম করুন, তাঁকেই এ কাজের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল। তারপর আল্লাহ্ তাঁর মাধ্যমে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টি করেছিলেন। ভাবুন তো, আমি তেমন কোনো বড় সওয়াবের কাজ করিনি যার বিনিময়ে আমি এই স্বপ্নগুলো পুরস্কার হিসেবে পাচ্ছি। এ বিষয়ে, এটি আল্লাহ্ (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা)-এর ইচ্ছা ও করুণা যে আমি এই স্বপ্নগুলো পাচ্ছি।”
“শুনুন, আমার স্বপ্নে যা দেখানো হয়েছে তা হলো—যতক্ষণ পর্যন্ত এই দেশকে শিরক ও তার সব রূপ থেকে পরিশুদ্ধ না করা হবে, ততক্ষণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সাহায্য আসবে না। এখন বলুন তো ‘পাকিস্তান’ শব্দের মানে কী? একটি পবিত্র স্থান। পবিত্র স্থান অর্থাৎ এমন একটি স্থান, যেখানে শিরক থাকবে না। আল্লাহ পাকিস্তানকে সাহায্য করবেন না, যতক্ষণ না শিরক ও এর ধরনসমূহ দেশ থেকে মুছে ফেলা হয়।
এখন যা হচ্ছে—এবং তা গত সত্তর বছর ধরে চলছে—অনেক রাজনৈতিক নেতা এসেছে, মার্শাল ল’ হয়েছে, আমরা ভিন্ন ভিন্ন ধরনের সরকার দেখেছি, সবাই পাকিস্তানের উন্নতি ও সমৃদ্ধি আনার চেষ্টা করেছে, কিন্তু সেই সমৃদ্ধি কখনো আসেনি। কোনো পরিকল্পনা সফল হয়নি, আমরা প্রত্যাশিত অগ্রগতি করিনি, কারণ আমরা শিরক ও এর ধরনসমূহ থেকে নিজেদের রক্ষা করা বন্ধ করে দিয়েছি।
যখন পাকিস্তান শিরক ও তার সব রূপ থেকে পরিশুদ্ধ হবে, তখন আল্লাহর সাহায্য আসবে, আমাদের পরিকল্পনা যেমনভাবে চেয়েছি তেমনভাবে সফল হবে, আর আল্লাহ তাঁর রহমত ও বরকত বর্ষণ শুরু করবেন। যেমন হজরত ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) মূর্তি ভেঙেছিলেন এবং হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা বিজয়ের সময় মূর্তি ভেঙে সেই স্থানকে শিরক থেকে পরিশুদ্ধ করেছিলেন।
এখন আমাকে দেখুন, আমি খুব ধার্মিক মানুষ নই; আমি যেমন আছি তেমনভাবেই আপনার সামনে আছি। কিন্তু আমার স্বপ্নে যা এসেছে তা হলো—যদি আল্লাহ আমাকে সাহায্য করেন, তা এই কারণে যে আমি যতটা পারি শিরক ও এর ধরনসমূহ থেকে নিজেকে রক্ষা করি। তখনই আল্লাহ তাআলা আমাকে সাহায্য করেন, আর এমন লোকজন যারা আমাকে কখনো দেখেনি, আমাকে চেনে না, তারা সারা পৃথিবী থেকে এই স্বপ্নগুলিতে বিশ্বাস করে, নিজেদের ভাষায় অনুবাদ করে এবং প্রচার করে। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া এটি অসম্ভব।”
“আমার একটি স্বপ্ন আছে: আমার স্বপ্নগুলোর প্রথম নিদর্শন হলো, পাকিস্তানকে ‘তোরা বোরা’ (অস্থিতিশীল করা এবং ভাগ করার চেষ্টা) বানানোর চেষ্টা করা হবে। আল্লাহ সর্বশক্তিমান (সুবহানাহু ওয়া তাআলা) পাকিস্তানের ওপর এমন সময় কখনো না আনুক। কিন্তু পাকিস্তানের শত্রুরা পরিকল্পনা করছে; উদাহরণস্বরূপ, মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশ বিভক্ত হয়েছে বা আরব বসন্তের (২০১০ সালে আরব বিশ্বে প্রতিবাদ) মতো ঘটনা হয়েছে। একইভাবে, তারা পাকিস্তানকেও এমন কিছু করতে চায়।
কিন্তু তারপর আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তাআলা) পাকিস্তানকে সাহায্য করেন, এবং যেমন আমি বলেছি, এই স্বপ্নগুলো সেনাপ্রধানের কাছে পৌঁছে। তখন তিনি সাক্ষ্য পান, এরপর পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠানগুলো এই স্বপ্ন অনুযায়ী পরিকল্পনা করে পাকিস্তান ও ইসলামকে রক্ষা করে। তারপর আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তাআলা) পাকিস্তানকে সাহায্য করেন, এবং তারপর আমরা শুধু সফলভাবে পাকিস্তানকে রক্ষাই করি না, পাকিস্তান খুব দ্রুত অগ্রগতি অর্জন করে। তখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার ধনভান্ডার, শান্তি এবং বরকত পাকিস্তানের ওপর অবতীর্ণ হতে শুরু করে।”
“ইসলামে স্বপ্নের বিশাল গুরুত্ব রয়েছে। হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যে নবুয়ত তাঁর মাধ্যমে শেষ হয়েছে, এবং ওহী (প্রকাশের ধারা) ও শেষ হয়েছে, কিন্তু ‘সুখবর’ (মুবাশশিরাত) চলবে। সাহাবারা জিজ্ঞাসা করেছিলেন, এই ‘সুখবর’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে, তখন হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন যে এগুলো সত্য স্বপ্ন।
আপনি যদি ইতিহাস পড়ে থাকেন, জানবেন যে নুরউদ্দিন জঙ্গিরও স্বপ্ন ছিল, যেখানে তাঁকে জানানো হয়েছিল দুটি মানুষ নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বরকতময় কবরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি পুরো মদিনা জুড়ে তাদের খুঁজে বের করেছিলেন, এবং এরপর তাদেরকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। পরে দেখা যায়, তারা সত্যিই বরকতময় কবরের কাছে পৌঁছাতে চলেছিল।
এটি থেকে আপনি ইসলামে স্বপ্নের গুরুত্ব বুঝতে পারেন।”
“আমি হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ধর্ম অনুসরণ করি, এবং ইনশাআল্লাহ, আমি এ পথে অটল থাকব। আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা-র কাছে দোয়া করি তিনি যেন আমাকে হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ধর্ম অনুসরণ করে মৃত্যুবরণ করার তৌফিক দান করেন। আর অন্যান্য বিষয়ে, আমি একজন সুন্নি মুসলিম। আমি কখনো সত্যিই এইসব মাযহাবের অর্থ বুঝিনি। আমার স্বপ্নে দেখানো হয়েছে যে হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পথই সেরা পথ। আমি সেই পথ অনুসরণ করার চেষ্টা করি, এবং আমার পুরো চেষ্টা হলো সেই পথ অনুসরণ করে আল্লাহ, সকল জগতের রবের নিকট পৌঁছানো।”
“নিজে থেকে আমি আমার স্বপ্নগুলো বিভিন্ন সরকারি সংস্থা এবং সেনা সংক্রান্ত ওয়েবসাইটে ইমেইলের মাধ্যমে পৌঁছে দিয়েছি। এরপর, ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে, আমি এই স্বপ্নগুলো ইন্টারনেটে সাধারণভাবে শেয়ার করা শুরু করি, এবং এরপর মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করে। যদি আপনি ভাবেন, আপনি দেখবেন যে আমার এতে কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই। যদি আমার এক শতাংশও স্বার্থ থাকত, আমি ভাই ইমরানের মতো মানুষদের সঙ্গে ইউটিউবে লাইভ সেশনে এসে নিজেই এটি করতাম।”
“আমার বন্ধুরা এবং আমি অনেক বিখ্যাত আলেমদের সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ইমেইল পাঠিয়েছিলাম, আমার এই স্বপ্নগুলো শেয়ার করতে, কিন্তু আমি তাদের কারও কাছ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাইনি।”
“পাকিস্তানের ওপর একটি খুব তীব্র যুদ্ধ আরোপিত হবে, যা হাদিসে ভবিষ্যদ্বাণীকৃত ‘গাজওয়াতুল হিন্দ’ নামে উল্লেখ করা আছে। এই যুদ্ধে পাকিস্তান একপক্ষে থাকবে, এবং ইসলাম ও পাকিস্তানের শত্রুরা অন্যপক্ষে থাকবে। এই যুদ্ধে আল্লাহ পাকিস্তানকে প্রায় তিন হাজার কালো যুদ্ধবিমান দিয়ে সাহায্য করবেন, এবং পাকিস্তান আল্লাহর সাহায্যে এই যুদ্ধ জিতবে। এরপর পাকিস্তান মধ্যপ্রাচ্যের দিকে এগিয়ে যাবে, রাশিয়া ও আমেরিকার মতো সুপারপাওয়ারদের পরাজিত করবে, এবং শুধু তাই নয়, মুসলমানরা যে অঞ্চলগুলো তুরস্ক ও মধ্যপ্রাচ্যে হারিয়ে ফেলেছিল, সেগুলোও পুনরুদ্ধার করবে। তারপর পাকিস্তান এই অঞ্চলগুলো পুনর্গঠন করবে এবং হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সত্য ইসলাম প্রচার করবে।”
“সবচেয়ে খারাপ বিষয় হলো মুসলমানদের ধ্বংস, যেখানে তারা ক্রমাগত কষ্ট ভোগ করবে, যাকে আপনি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বলতে পারেন। এটি মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হবে, এবং মুসলমানরা এমনকি তুরস্কও হারাবে। মধ্যপ্রাচ্যের অনেক এলাকা হারিয়ে যাবে, এবং আমি আমার স্বপ্নে এই ধ্বংসের অত্যন্ত হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখেছি। ভালো খবর হলো যে আল্লাহ পাকিস্তানকে সাহায্য করবেন। আমার স্বপ্নে আমি তিনটি দুর্গ দেখেছি, যার মধ্যে একটি হলো পাকিস্তান। আল্লাহ পাকিস্তানকে সাহায্য করবেন, এবং শেষপর্যন্ত পাকিস্তান পুরো বিশ্বে রাজত্ব করবে, বিশ্ব শান্তিতে পরিপূর্ণ হবে।”
“আপনি ইন্টারনেটে আমার প্রথম পোস্টটি দেখতে পারেন; এটি এখনও সেখানে রয়েছে। সেই পোস্টটি দেখলেই আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন যে আমি কোনো প্রতিষ্ঠানের দ্বারা প্রেরিত ব্যক্তি নই। এটি সম্পূর্ণ অপ্রফেশনাল। আমি যে পোস্টগুলো ফেসবুকে করেছি এবং ইউটিউবে যে ভিডিওগুলো আপলোড করেছি—যদি আপনি এগুলো ইংরেজিতে পড়েন, তা মনে হবে যেন এগুলো পঞ্চম বা ষষ্ঠ শ্রেণির কোনো শিশুর লেখা। যদি কোনো এজেন্সি কাউকে প্রতিষ্ঠা করে, তারা তা পেশাদারভাবে করে, কোনো ত্রুটি বা ফাঁক না রেখে, পেশাদার ভাষা ও প্রতিটি ক্ষেত্রে পেশাদারভাবে। আপনি আমার প্রথম পোস্টটি দেখতে পারেন; পুরো ইতিহাস ইন্টারনেটে পাওয়া যায়। আপনি নিজেই যাচাই করতে পারেন। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যদি কোনো এজেন্সি কাউকে লঞ্চ করতে চায়, তারা একজন জনপ্রিয় ব্যক্তি বেছে নেবে, যাদের ইতিমধ্যেই অনুসারী রয়েছে। তারা কেন আমাকে বেছে নেবে, যিনি কীনা নিজের এলাকাতেও অজানা?”
“আপনি দেখতেই পাচ্ছেন, আমি একজন সাধারণ মানুষ, এমনকি নিজের এলাকাতেও প্রায় অজানা। এবং যখন আমি এই স্বপ্নগুলো শেয়ার করা শুরু করি, তখন আমি একা ছিলাম। এখন, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা-র কৃপায়, আপনি দেখছেন যে পুরো বিশ্ব থেকে মানুষ, এমনকি অনেকেই যাদের আমি কখনো দেখিনি, এই স্বপ্নগুলোতে বিশ্বাস করছে। এমন মানুষ রয়েছে যাদের সঙ্গে আমি কখনো দেখা করিনি, এমনকি (ইন্টারনেটে) চ্যাটও করিনি। কিন্তু তারা আমার স্বপ্নে শুধু বিশ্বাসই করেনি, বরং তাদের ভাষায় অনুবাদ করেছে, ভিডিও তৈরি করেছে এবং আপলোড করেছে। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া এটি সম্ভব নয়। কিছু মানুষ বলেন, দিনে যা ভাবেন, রাতে তাই স্বপ্নে দেখেন। তবে আজ অনেক পণ্ডিত আছেন, যাদের পুরো কাজই হলো মানুষকে ধর্মীয় বিষয়ে গাইড করা এবং ইসলাম প্রচার করা, কিন্তু তাদের মধ্যে খুব কমই এমন স্বপ্ন দেখে। এটি প্রমাণ করে যে, এটি আবশ্যক নয় যে কোনো মানুষ দিনে যা ভাবছে বা করছে, রাতের স্বপ্নে তাই দেখবে।
আল্লাহ সবসময় কিছু অনন্য সৃষ্টি করেন, এবং যদি এই স্বপ্নগুলো আগে কখনো কাউকে দ্বারা শেয়ার বা তৈরি করা হয়নি, তাহলে এর মানে হলো এগুলো সত্যিই বিশেষ এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে।”






